হট টপিক
কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং রোপওয়ে, পর্যটনে নতুন দিগন্ত
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনে জুড়তে চলেছে এক নয়া পালক। পাহাড় সুন্দরী দার্জিলিং এবার প্রত্যক্ষ করতে চলেছে এক অভূতপূর্ব রূপান্তর। নবান্ন সূত্রে খবর, কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রোপওয়ে তৈরির প্রস্তাব নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই এই মেগা রোপওয়ে প্রকল্পের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।
প্রস্তাবিত এই রোপওয়ের দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। সাধারণত পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কপথে কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে পর্যটকদের যে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়, এই রোপওয়ে চালু হলে তার অর্ধেকেরও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব হবে। ফলে একদিকে যেমন বাঁচবে সময়, তেমনই যানজটের ঝক্কি এড়িয়ে পর্যটকরা অনায়াসেই উপভোগ করতে পারবেন পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য।
নবান্ন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিকটির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রোপওয়েতে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ থেকে ১৮০০ জন যাত্রী পরিবহণ করা সম্ভব হতে পারে। এই বিপুল যাত্রী ধারণক্ষমতা পাহাড়ের পর্যটনে এক নতুন জোয়ার আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন পাহাড়ি এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে দার্জিলিং-এর আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যাবে। নবান্নের সবুজ সংকেত মিললে দ্রুতই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই রোপওয়ে প্রকল্প পাহাড়ের অর্থনীতিতে কতটা গতি আনতে পারে।

