হাসিনার ফেরার ঘোষণায় উত্তপ্ত ঢাকা, ধৃত ৫১৫
নিজস্ব প্রতিনিধি: দু’বছর দেশছাড়া হয়ে ভারতে থাকার পর আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই ফেরার ঘোষণায় ওপার বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। বিগত কয়েক মাস ধরে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরা এই বার্তায় ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। নেত্রীর প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় বিশাল মিছিল বের করে আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকেরা। তবে সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশের পরিস্থিতি।
জানা গিয়েছে, শুক্রবারের এই মিছিলকে ঘিরে ঢাকার একাধিক জায়গায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়। মিছিলের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। ধৃতদের মধ্যে আওয়ামি লিগের বহু সক্রিয় কর্মী ও স্থানীয় স্তরের নেতা রয়েছেন বলে খবর।
অভিযোগ, শুক্রবারের মিছিলকে কেন্দ্র করে ঢাকার অন্তত ৭-৮টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর এবং নাশকতার ঘটনাও ঘটেছে। হঠাৎ এই বোমা বিস্ফোরণ ও হিংসার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার রাস্তায় নামানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। স্পর্শকাতর মোড়গুলিতে চলছে কড়া তল্লাশি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৪ সালে গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন হাসিনা। তারপর থেকে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের চলতি তারেক রহমান প্রশাসনের ওপর যেমন চাপ বাড়াচ্ছে, তেমনই দেশের আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে হাসিনা বাংলাদেশে পা রাখেন কি না এবং তার জল কত দূর গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

