চলচ্চিত্র শংসাপত্রে বড় বদল: হিংসা-মাদক রুখতে কড়া সেন্সর বোর্ড
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বা শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থায় একগুচ্ছ বড়সড় পরিবর্তন নিয়ে এল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অনুমোদিত এই নতুন সংশোধিত নির্দেশিকায় এবার থেকে সিনেমায় অপ্রয়োজনীয় হিংসা, যৌন হেনস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের দৃশ্য দেখানোর ক্ষেত্রে চরম কড়াকড়ি করা হয়েছে। গল্পের স্বার্থে এই ধরনের দৃশ্য রাখার প্রয়োজন হলেও, তা কোনোভাবেই বিস্তারিতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা যাবে না।
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, ছবিতে মাদক দ্রব্যের ব্যবহার, সেবন কিংবা পাচারের দৃশ্য থাকলে পর্দায় বাধ্যতামূলকভাবে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দেখাতে হবে। যেখানে স্পষ্ট করে লিখতে হবে— ‘অবৈধ মাদক স্বাস্থ্য নাশ করে এবং জেল হেফাজত নিশ্চিত করে। মাদককে না বলুন’। শুধু দৃশ্যই নয়, গালিগালাজ বা দ্ব্যর্থবোধক কোনো শব্দ, যা প্রকারান্তরে অশ্লীলতাকে ইঙ্গিত করে, তাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এবারের পর্যালোচনায় সবচেয়ে বড় বদল এসেছে বয়স ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে। এতদিন পর্যন্ত থাকা সাধারণ ‘ইউ/এ’ (U/A) শংসাপত্রকে ভেঙে তিনটি নতুন উপভাগে ভাগ করা হয়েছে— ইউ/এ ৭+ (UA 7+), ইউ/এ ১৩+ (UA 13+) এবং ইউ/এ ১৬+ (UA 16+)। অর্থাৎ, নির্ধারিত বয়সের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে সিনেমাটি দেখার জন্য অভিভাবকের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধান আবশ্যক। নির্মাতাদের সিনেমার প্রচারের সময়েই এই বয়সের ট্যাগগুলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া, ছবির নাম বা শিরোনামও এখন থেকে কড়া স্ক্যানারের নিচে থাকবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা শ্রেণির ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে, এমন কোনো বিষয় বা ছবির নাম রাখা যাবে না। ছবির পটভূমি যে সময়ের বা সমাজেরই হোক না কেন, বর্তমান সমকালীন সামাজিক মানদণ্ডে সেটি কতটা উপযুক্ত এবং ছবিটি সামগ্রিকভাবে দর্শককে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা এবার থেকে খুঁটিয়ে দেখবে সেন্সর বোর্ড।

