জেলা
তৃণমূলের অত্যাচারের বিচার চেয়ে থানায় মহিলারা
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত কাঁকসার গোপালপুর উত্তরপাড়ার একদল বিজেপি মহিলা কর্মী বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা কাঁকসা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্নভাবে তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছিল। রাস্তায় ফেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এমনকী বিধবা করে দেওয়া হবে বলেও তখন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা বিজেপি করতেন এটাই ছিল অপরাধ। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি করেন মহিলারা।
সোমবার সন্ধ্যায় থানায় এসে সুমিতা মিস্ত্রী বলেন, ২০২১ সাল থেকে আমাদের উপরে যেভাবে অত্যাচার হচ্ছিল তার প্রতিবাদেই আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। কানধরে ওঠবোস, বাড়ি ভাঙা, মেয়েদের গায়ে হাততোলা, রাস্তাঘাটে যখন তখন হুমকি দেওয়া সবই অনবরত চলেছে। এতদিন আসতে পারিনি কারন একসঙ্গে দু-চারজন মেয়ে বেরোলে আমাদের দাঁড় করিয়ে হুমকি দিত। তাই আমরা থানা পর্যন্ত আসার সাহসটুকু পেতাম না। অভিযোগকারিণী রমা মল্লিক বলেন, ঘর থেকে বের করে টেনে এনেছিল। তারপর কান ধরে ওঠবোস করিয়েছিল। বলেছিল বিজেপির মিটিং মিছিলে আমাকে দেখা গেলে বাড়ি থেকে বের করে দেব। এতদিন ওদের ভয়ে অভিযোগ করিনি। এখন পালা বদল হয়েছে। আমাদের দল এসেছে। তাই অভিযোগ করেছি। মধুমিতা সরকার নামে এক মহিলার অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরমশাই যখন বাড়িতে খাবার খাচ্ছিলেন, তখন তৃণমূলের গুণ্ডারা তাঁকে কলার ধরে টেনে বের করে মারধর করে। এছাড়া ঊর্মিলা সরকার, শম্পা খাঁ সহ অন্য মহিলারা জানান, ২০২১ সালে ভোটে হারার পর তৃণমূলের নেতারা আমাদের ঘরছাড়া করে দিয়েছিল। পরে বাড়িতে এলেও অত্যাচার হয়েছে। আমরা আতঙ্কে ছিলাম। তবে বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতেও বিজেপি থেকে সরে যাইনি।
এই ঘটনায় অভিযোগ তীর উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাধিপতি জয়জিৎ মন্ডল ও তৃণমূল নেতা রমেন মন্ডলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি দাবি জানিয়েছেন আক্রান্ত মহিলারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের গুন্ডারা এলাকা দাপিয়ে রাখত। নারী সম্মান ছিল না। এখন পালা বদল হয়েছে। আইনের শাসন হবে। সবাই তাদের মর্যাদা ফিরতে পাবে। দোষীরাও শাস্তি পাবে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে জয়জিৎ বলেন, মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। গোপালপুর এলাকার কেউ বলতে পারবে না কোনো ঝামেলায় আমি ছিলাম। পাঁচ বছর প্রধান ছিলাম, এখন পঞ্চায়েত সমিতির দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেওয়ার জন্য মিথ্যা বদনামের চেষ্টা করা হচ্ছে।

