বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চেম্বারে ঢুকে বিজেপি বিধায়কের হুঁশিয়ারি: লাইসেন্স বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চেম্বারে ঢুকে বিজেপি বিধায়কের হুঁশিয়ারি: লাইসেন্স বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পাথর খাদান, বন্দুক এবং হোটেলের সরাই লাইসেন্স দেওয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠল বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তুলে সরাসরি মহকুমা প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে ওই সরকারি আধিকারিককে তীব্র ভাষায় ধমক ও হুঁশিয়ারি দিলেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। শুক্রবার বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমা শাসক দপ্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র শোরগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহার দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই রামপুরহাট মহকুমা এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসার লাইসেন্স এবং বন্দুকের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং অনিয়ম চলছে। বিশেষ করে পাথর খাদান পরিচালনার লাইসেন্স, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বন্দুকের লাইসেন্স এবং হোটেল ব্যবসার জন্য জরুরি সরাই লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্বজনপোষণ করা হচ্ছে বলে তাঁর কাছে খবর ছিল। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার হঠাৎ করেই রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসনিক দপ্তরে হাজির হন বিধায়ক। তিনি সরাসরি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্তকুমার মাইতির চেম্বারে ঢুকে পড়েন। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিধায়ক ধ্রুব সাহা সরাসরি ওই সরকারি আধিকারিকের টেবিলের সামনে গিয়ে আঙুল উঁচিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ধমক দিতে শুরু করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, সরকারি পদে বসে এই ধরনের দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজের কাজ ও আচরণ শুধরে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিধায়ক বলেন, যদি আপনি নিজেকে না শুধরে নেন, তবে আপনার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করে আপনাকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস থেকে বেরোনোর পরেই বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বীরভূমের জেলাশাসককে (DM) সরাসরি ফোনে পুরো বিষয়টি জানান। রামপুরহাট মহকুমা স্তরে লাইসেন্স দেওয়ার নামে কী ধরনের দুর্নীতি ও টাকার খেলা চলছে, তা নিয়ে জেলাশাসকের কাছে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একই সঙ্গে, অভিযুক্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্তকুমার মাইতির বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত শুরু করার জোরালো দাবি জানান বিধায়ক।

অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্তবাবু। বিজেপি বিধায়কের এই আচমকা ধমক ও হট্টগোলের পর তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সুশান্তবাবু জানান, তিনি নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করেননি এবং সমস্ত লাইসেন্স আইন মেনেই দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি বিধায়কের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি নিজেই জেলে যেতে প্রস্তুত আছি।
সরকারি দপ্তরের ভেতরে ঢুকে একজন শীর্ষ স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিককে এভাবে আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় নানা চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে যেখানে এই পদক্ষেপকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে আমলা মহলের একাংশ এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। সরকারি আধিকারিকদের নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। প্রশাসনের শীর্ষ মহল এখন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

আরও জেলা খবর