জেলা
মানকরে একাধিক ট্রেনের স্টপেজের দাবি পূরণ করবেন রাজু
প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। গলসিতে এখন পদ্মের বিধায়ক রাজু পাত্র। আসানসোল ডিভিশনের মানকর স্টেশনে সিউড়ি-শিয়ালদহ মেমু এক্সপ্রেস, আসানসোল-শিয়ালদহ ইন্টারসিটি, গঙ্গাসাগর সহ একাধিক ট্রেনের স্টপেজের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের আশা সেই দাবি পূরণ করবেন নতুন বিধায়ক। বিষয়টি নিয়ে রাজু বলেন, বিজেপি যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা রাখে। মানকর স্টেশনে ট্রেনগুলির স্টপেজ জন্য অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানকর স্টেশনের উপর গলসি ১ ও আউশগ্রাম ২ ব্লকের অমরাগড়, ভাতকুন্ডা, সুয়াতা সহ জঙ্গলমহলের একাধিক গ্রামের মানুষ নির্ভর করেন। তাছাড়া মানকরে রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বেশ কিছু সরকারি দপ্তর। মানকরের পাশেই বুদবুদে রয়েছে সেনা ছাউনি। বহু সেনা জওয়ান মানকর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে গন্তব্যে যান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। সিউড়ি-শিয়ালদহ, আসানসোল-শিয়ালদহ ছাড়া দূরপাল্লার যাত্রীরা মিথিলা এক্সপ্রেস, বিভূতি এক্সপ্রেস, জম্মু তাওয়াই ও গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেসের দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অশোক চক্রবর্তী বলেন, এই এলাকা থেকে বহু মানুষ কল্যাণী এইমস, ব্যারাকপুরে চিকিৎসার জন্য যান। সরাসরি শিয়ালদহ লাইনের ট্রেন না থামার জন্য এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। রোগী নিয়ে একাধিকবার ট্রেন পরিবর্তন করতে হয়। গন্তব্যে পৌঁছাতে বর্ধমান, ব্যান্ডেল, নৈহাটিতে ট্রেন পরিবর্তন করতে হয়। সিউড়ি-শিয়ালদহ, আসানসোল-শিয়ালদহ ট্রেনগুলি মানকরে স্টপেজ দিলে সরাসরি শিয়ালদহ যাওয়া যাবে। নতুন বিধায়ক আশা করি সেই দিকটি ভাববেন। মানকরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, বহু সেনা জওয়ান সহ এলাকার বহু মানুষ ব্যবসার কাজে নিয়মিত শিয়ালদহ যান। আবার রাত করে হাওড়া থেকে কাজ সেরে মানকরে ফিরতে সমস্যা হয়। ট্রেনগুলির স্টপেজ হলে সুবিধা হবে।
স্থানীয়রা জানান, বহুবার ট্রেনের স্টপেজের জন্য আবেদন করা হয়েছে কিন্তু লাভ হয়নি। অথচ এই ট্রেনগুলি ধরতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পানাগড় স্টেশন অথবা লোকাল ট্রেনে বর্ধমান যেতে হয়। তাতে সময় এবং খরচ দুয়েরই অপচয় হয়। মানকর স্টেশনে এই এক্সপ্রেসগুলির স্টপেজ দিলে বুদবুদ সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবে। পাশপাশি রেলের আয়ও একলপ্তে অনেকটাই বেড়ে যাবে। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, অগ্নিবীণা, হুল, ময়ূরাক্ষী ট্রেনের স্টপেজের দাবি বিজেপি সাংসদ পূরণ করেছিলেন। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার হয়েছে। মানকরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন একাধিক ট্রেনের দাবি করেছেন। সেই দাবি নিশ্চিত পূরণ হবে। মানকরে রেল গেটে যানজটের মুক্তি কীভাবে ঘটবে তাও ভাবা হচ্ছে।

