জেলা
বিজেপির অনাস্থায় তৃণমূলের উপপ্রধান, অপসারিত বলরামপুরের পঞ্চায়েত প্রধান
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দলীয় কোন্দল আর ক্রস ভোটিংয়ের জেরে এবার পুরুলিয়াতেও হাতছাড়া হল তৃণমূলের পঞ্চায়েত। বিজেপির আনা অনাস্থা প্রস্তাবে খোদ তৃণমূলেরই উপপ্রধান সমর্থন জানানোয় পদ হারালেন বলরামপুর ব্লকের বড়উরমা পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শ্যামলী মাহাতো। বুধবার এই পঞ্চায়েতের ডাকা বিশেষ তলবি সভায় প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে যায়।
রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকে ১৭ আসনের এই বড়উরমা পঞ্চায়েতটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কিছুদিন আগে এক সদস্যের মৃত্যুর পর বর্তমানে এই পঞ্চায়েতের মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এর মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শিবিরেরই ৮ জন করে সদস্য থাকায় এতদিন ক্ষমতা দখলের লড়াই ছিল একেবারে সমানে-সমানে।
বুধবারের এই সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পঞ্চায়েত চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। টানটান উত্তেজনার মধ্যে শুরু হওয়া ভোটাভুটিতে বিজেপির ৮ জন সদস্যের পাশাপাশি হাজির হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত উপপ্রধান মেঘনাথ কালিন্দীও। তবে নাটকীয়ভাবে এদিন ভোটাভুটিতে অংশ নেননি অপসারিত প্রধান শ্যামলী মাহাতো এবং তৃণমূলের বাকি ৭ জন সদস্য। ফলে ভোটাভুটিতে উপস্থিত থাকা ৯ জন সদস্যই অনাস্থার পক্ষে ভোট দেন। আর তার জেরেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে প্রধানের পদ থেকে অপসারিত হন শ্যামলী। ভোটাভুটি শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী উপপ্রধান মেঘনাথ কালিন্দী স্পষ্ট জানান, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং নিজেদের এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি বিজেপির আনা অনাস্থার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ঘটনার পর জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

