জেলা
নেপাল থেকে খালি হাতেই ফিরলেন নিখোঁজ অশোকের পরিবার
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী অশোক পাল। দিনরাত উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় কাটানোর পর, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সুদূর নেপাল পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁর পরিজনেরা। কিন্তু চারদিক খুঁজেও মিলল না কোনও খোঁজ। এক বুক হতাশা আর কান্না চেপে শেষ পর্যন্ত নেপাল থেকে খালি হাতেই ফিরতে হলো নিখোঁজ অশোকের ভগ্নীপতি সঞ্জয় দাস ও ভাইরাভাই ছোটু পাণ্ডেকে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের লাকুর্ডির বাসিন্দা অশোক পাল নেপালের রাসুয়া এলাকার একটি বিদ্যুৎপ্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি সেখানে হড়পা বান আছড়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছিল না। দাদাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে নেপালে গিয়ে টানা তিন দিন ধরে রাসুয়া ও ত্রিশূলী এলাকার একের পর এক হাসপাতাল চষে ফেলেন সঞ্জয় ও ছোটু। খোঁজ নেন ত্রিশূলী এলাকার স্থানীয় থানাতেও। কিন্তু কোথাও অশোকের নাম বা হদিশ পাওয়া যায়নি।
নেপালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছেন বর্ধমানের লাকুর্ডির বাসিন্দা সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, “বহু হাসপাতালে ঘুরেও দাদার কোনও সন্ধান পাইনি। ওখানকার উদ্ধার শিবিরগুলিতে যে ভয়ানক দৃশ্য চোখে পড়েছে, তা ভোলার নয়। হড়পা বানে গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মাটি খুঁড়লেই শুধু মানুষের দেহাংশ বেরিয়ে আসছে।”
তবে এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে নেপাল প্রশাসন। সঞ্জয় বাবু জানান, সে দেশে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ওখানকার পুলিশ ও প্রশাসন তাঁদের ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধরে আস্থা রাখতে বলেছেন। নিখোঁজ অশোকের কোনও খবর পাওয়া মাত্রই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে নেপাল পুলিশ। সেই ক্ষীণ আশা বুকে নিয়েই আপাতত বর্ধমানের বাড়িতে ফিরেছেন অশোকের পরিজনেরা।

