বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ ঘরের ছেলে, বুকভরা উদ্বেগ নিয়ে কাঠমাণ্ডু রওনা দিলেন স্বজনরা

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ ঘরের ছেলে, বুকভরা উদ্বেগ নিয়ে কাঠমাণ্ডু রওনা দিলেন স্বজনরা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান ও বাঁকুড়া: দিন কাটছে চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে। বাড়ির ক্যালেন্ডারে দিন বদলাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু থমকে গিয়েছে একটা গোটা পরিবারের জীবন। গত ২৬ অগস্ট হিমবাহ ধসে নেপালের রাসুয়া জেলায় সৃষ্ট প্রলয়ঙ্কর হড়পা বানের পর থেকে এখনও নিখোঁজ বাঁকুড়ার ইঁদপুরের মুদুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশোক পাল। দীর্ঘ বারো দিন পার হয়ে গেলেও ছেলের কোনও হদিস না পেয়ে শেষমেশ আর ঘরে বসে থাকতে পারলেন না স্বজনরা। সোমবার নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন অশোকের ভগ্নিপতি বর্ধমানের লাকুর্ডির বাসিন্দা সঞ্জয় দাস এবং ভাইরাভাই ছোটু পান্ডে।

ইঁদপুরের মুদুনিয়া গ্রাম এখন কার্যত স্তব্ধ। অশোকের বাড়িতে কান্নার রোল। বোন কবিতা দাস এদিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “অনেক দিন হয়ে গেল দাদার কোনও খবর নেই। আর কত দিন ঘরে বসে ধৈর্য রাখা যায়? বুকটা ফেটে যাচ্ছে। তাই নেপালে গিয়ে নিজে চোখে পরিস্থিতি দেখার জন্য বাড়ির লোক ওখানে গিয়েছেন।” 
ইঁদপুরের বাসিন্দা অশোক পাল কর্মসূত্রে নেপালের রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ২৬ অগস্টের সেই অভিশপ্ত সকালে ভারত-চীন সীমান্তের রাসুয়াগড়িতে আছড়ে পড়া সর্বগ্রাসী জলচ্ছ্বাস ও ধস ওলটপালট করে দেয় সব কিছু। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ওই এলাকার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নেপালের ওই পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। শুধু সুড়ঙ্গ এবং কাদামাটির নিচেই প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক ও কর্মী আটকা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিপুল বিপর্যয়ের পর থেকে অশোকের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং বোনের রাত কাটছে চরম আতঙ্কে। উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামেও। প্রতিবেশী জয়ন্ত পাত্র বলেন, “এতগুলো দিন কেটে গেল, অথচ অশোকের কোনও খোঁজ মিলল না। ও বেঁচে আছে নাকি কাদার নিচে আটকে রয়েছে, কেউ বলতে পারছে না। আমরাও মারাত্মক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।” নেপাল সেনা ও পুলিশ প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালালেও দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং পুরু কাদার আস্তরণের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরের ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরেই নেপালের পাহাড়ি খাদের দিকে রওনা দিয়েছেন তাঁর পরিজনরা।  (https://www.cnn.com/2026/08/31/world/live-news/nepal-china-flood#:~:text=Authorities%20are%20burying,remain%20missing.)