আবাস যোজনার নামে কাটমানি! মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন উপপ্রধান
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। ধৃত নেতার নাম সিরাজুল শেখ। তিনি মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান এবং বর্তমানে ওই এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদে রয়েছেন। শনিবার দুপুরে নতুনগ্রামের একটি এলাকা থেকে মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলায় জোর রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিরাজুল শেখ ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। অভিযোগ, সেই সময়েই নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার একাধিক গরিব মানুষের কাছ থেকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় টাকা তুলেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলির কেউই শেষ পর্যন্ত মাথা গোঁজার মতো কোনো সরকারি ঘর পাননি। ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে ওই নেতা তাঁদের দিনের পর দিন ঘুরিয়েছেন এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ।
নতুনগ্রামের বাসিন্দা বাবলু মণ্ডল নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি সরকারি ঘরের আশায় তিনি তৎকালীন উপপ্রধান সিরাজুল শেখকে নগদ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি কোনো ঘর পাননি, এমনকি তাঁর কষ্টার্জিত টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। বাবলুবাবুর মতোই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা অবশেষে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এবং ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মুর্শিদাবাদ থানার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই সিরাজুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুর্নীতির পেছনে আর কোনো বড় মাথা জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, এই গ্রেপ্তারি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের দাবি, কাটমানি নেওয়া তৃণমূলের সংস্কৃতি। অবিলম্বে শাস্তি চাই।

