জলের তলায় মালদহের বিস্তীর্ণ অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জল বাড়ায় প্লাবিত মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে সব থেকে সংকটে পড়েছে রতুয়া এবং মানিকচক ব্লক। বিশেষ করে মানিকচকের ভূতনির চরের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বন্যার জলের তোড়ে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে ভুতনি থানা ও স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এর জেরে আপাতত অস্থায়ীভাবে ভুতনি ব্রিজের ওপর চলছে থানার জরুরি কাজ। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিষেবা সচল রাখতে সেটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উত্তর চন্ডিপুর পঞ্চায়েত অফিসে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকার মূল সড়ক পথগুলি এখন জলের তলায়। ফলে সাধারণ মানুষ ও পুলিশের যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে চারটি নৌকা দেওয়া হয়েছে। এই নৌকাগুলির সাহায্যেই আপাতত কোনো রকমে যোগাযোগ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। চরম দুর্যোগের মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন গোটা ভুতনি দ্বীপ। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলি বিকল হয়ে পড়েছে, যার জেরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই এলাকায় নেমে এসেছে জোড়া বিপর্যয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যা কবলিত এলাকায় এক ব্যক্তির জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, জলমগ্ন ঘরে এক মহিলাকে সাপে কাটার ঘটনাও ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভুতনি এলাকাতেই প্রায় ৬০টি গ্রাম জলের তলায় চলে গেছে। আর সমগ্র জেলা জুড়ে প্লাবিত হয়েছে একশোরও বেশি গ্রাম। দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

