জেলা
গোহগ্রামের রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, বিক্ষোভ
প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণাদায়ক বেহাল রাস্তা থেকে মুক্তির প্রথম আলো দেখা যাচ্ছিল গলসির গোহগ্রাম এলাকায়। গরম্বা থেকে গোপডাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারের এই রাস্তার সংস্কার কাজ পথশ্রী প্রকল্পের অধীনে শুরু হয়েছে, যাতে খরচ হবে এক কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু সেই আশা এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন, ঠিকাদারি সংস্থা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে। পাশাপাশি শিডিউলও মানছে না।সোমবার তাঁরা কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারির জেসিবির সামনে তীব্র বিক্ষোভ করে।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, এই রাস্তা গোহগ্রাম, জয়কৃষ্ণপুরসহ প্রায় ২২টি গ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করেন। তাছাড়া বর্ধমানের সদরঘাট যাতায়াত করা যায়। কিন্তু বাম আমল থেকে এটি বেহাল, মাত্র কয়েকবার মোরাম দেওয়া হয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। অবশেষে পথশ্রী প্রকল্পে কাজ শুরুর খবরে সবাই খুশি হয়েছিল। কিন্তু জানুয়ারি মাসে শুরুর কথা থাকলেও সম্প্রতি সেই কাজ আরম্ভ হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে চললে দুর্ভোগ বাড়বে এবং কয়েকদিনেই রাস্তা ভেঙে পড়বে।
জয়কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা মনোজ ভক্ত বলেন, "পুরনো রাস্তার উপরেই দায়সারা কাজ চলছে। আমরা ঠিকাদারির কাছে শিডিউল দেখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু যেটা দেখানো হয়েছে তা আসল নয়। স্বচ্ছভাবে রাস্তা হোক চাই। এক বিক্ষোভকারী বলেন, বেহাল রাস্তা নতুন করে তৈরি হওয়ায় খুশি ছিলাম। কিন্তু প্রশাসন নজর না দিলে সমস্যায় পড়ব। এলাকার উন্নতির জন্য টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, অথচ এভাবে অপচয় হচ্ছে। গোহগ্রামের প্রাণগোপাল মন্ডল সতর্ক করে বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হলে রাস্তা করতে দেব না। বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
এদিন দুপুরের দিকে লক্ষ্মীপুর এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঠিকাদারি সংস্থার এক কর্মীর তুমুল বচসা হয়। কর্মী দাবি করেন, তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়েছে। স্থানীয়রা অস্বীকার করে বলেন, শিডিউল দেখাতে কয়েকবার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু উনিই দুর্ব্যবহার করেছেন। ঠিকাদারি সংস্থার কৌশিক পান্ডে বলেন, যে শিডিউল দেখানো হয়েছে সেটা আসল। কর্মীর গায়ে হাত তোলার ঘটনা থানায় জানানো হয়েছে।
গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি উপপ্রধান কানন মাজি বলেন, রাস্তার কাজ বন্ধের খবর শুনে এলাকায় এসে দেখলাম, স্থানীয়দের দাবি সত্যি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
এদিকে ঠিকাদারি সংস্থা সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন, শিডিউল মেনে কাজ না হলে আন্দোলন চলবে।

