জেলা
উধাও কালীঘাটের মা কালীর ভল্টের চাবি, সরব সাবর্ণ পরিবার
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শক্তিপীঠ কালীঘাটের মা কালীর সোনা-দানার হিসাব কোথায়? মায়ের অলঙ্কার কি আদেও সুরক্ষিত আছে? এবার এই প্রশ্ন তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হল কলকাতার প্রাচীন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, সতীপীঠের অন্যতম প্রধান এই পুণ্যভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে চরম অরাজকতা চলছে। উধাও হয়ে গিয়েছে মায়ের ধনরত্ন গচ্ছিত রাখার ভল্টের চাবিও।
কালীঘাটে মায়ের দেহাংশ প্রাপ্তি থেকে শুরু করে মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস— সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে সাবর্ণ পরিবারের নাম। সেই পরিবারের সদস্যদের দাবি, মায়ের বিপুল সম্পত্তি ও অলঙ্কার সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভল্ট নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে, অর্থাৎ ১৯৮০ সাল থেকে সেই ভল্টের চাবির কোনও হদিশ নেই। চাবি যদি না থাকে, তবে ভেতরে থাকা গয়নাগাটি আদেও অক্ষত আছে কি না, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় দেখা দিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, খাস কালীঘাট মন্দিরে মায়ের ধনসম্পদ লুট করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম অব্যবস্থা ও অরাজকতা বন্ধ করতেই এবার বিচারকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে বিচারককে জানিয়েছি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের যে ভল্টে মায়ের সম্পদ ও গয়না থাকে, ১৯৮০ সাল থেকে তার চাবির হদিশ নেই। মন্দিরের সম্পদের হিসাব রাখার যে কমিটি গড়া হয়েছিল, তার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে সম্পদের কোনো হিসাবই হয়নি। সেখানে লুট চলেছে। আমরা অভিযোগ করেছি, কালীঘাটে সম্পদের নয়ছয় হয়েছে এবং ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে। চাবি হারানোর ব্যাপারে দ্রুত এফআইআর করার নির্দেশ জারির আরজিও জানিয়েছি আমরা।’ এই মামলার জল কতদূর গড়ায় এবং নিখোঁজ চাবির রহস্যভেদ হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

