বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ঢিমেতাল, বৈঠকে ক্ষোভ বিধায়কের

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ঢিমেতাল, বৈঠকে ক্ষোভ বিধায়কের
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট। শুধু কাজের ঢিমেতালই নয়, নদী ও খাল সংস্কারের আড়ালে ‘নো-কস্ট’ মডেলে ব্যাপক বালি এবং মাটি লুটের এক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মহকুমা শাসকের দপ্তরে আয়োজিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে আধিকারিকদের সামনেই এই সব বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন বিধায়ক। তাঁর এই কড়া অবস্থানে স্বাভাবিকভাবেই চরম অস্বস্তিতে পড়েন বৈঠকে উপস্থিত থাকা সরকারি আধিকারিকেরা।

 মূলত, দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা এই প্রকল্পের কাজের বর্তমান অগ্রগতি ঠিক কতখানি, তা খতিয়ে দেখতেই বিধায়ক নিজেই উদ্যোগী হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে এই বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেছিলেন।পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল ও দাসপুর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এমনই যে, বর্ষাকালে শিলাবতী, কংসাবতী এবং রূপনারায়ণ নদীর জল সামান্য বাড়লেই বিঘার পর বিঘা জমি ও লোকালয় জলের তলায় চলে যায়। প্রতি বছর বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই বহু বছর আগে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক টানাপোড়েন, রাজনৈতিক দড়িটানাটানি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই রূপরেখা এখনও পর্যন্ত কার্যত বিশ বাঁও জলে পড়ে রয়েছে। কাজের কাজ কিছুই এগোয়নি বলে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার মহকুমা শাসক সুদীপ্ত সাঁতরা, সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক উজ্জ্বল মাখাল এবং ঘাটাল ও দাসপুরের বিডিও সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন বিধায়ক শীতল কপাট। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানতে চান, কেন মাস্টার প্ল্যানের কাজে এই বিপুল দেরি হচ্ছে? এরই পাশাপাশি, সংস্কারের নামে কীভাবে নদী ও খালের মহামূল্যবান সরকারি বালি ও মাটি বেআইনিভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব ও বর্তমান অবস্থার সম্পূর্ণ তথ্য তলব করেন তিনি। বিধায়কের দাবি, সংস্কারের নামে কোনো রকম নিয়ম না মেনে একদল অসাধু চক্র এই লুটপাট চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনিক এই বৈঠকের পর এলাকায় জোরদার রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন প্রতি বছর সাধারণ মানুষ বন্যার জলে ভাসছেন, তখন অন্যদিকে মাস্টার প্ল্যানের কাজ নিয়ে এই টানাপোড়েন ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রশাসনের ওপর চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রকল্পের গতি বাড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে ঘাটালবাসী কবে এই অভিশপ্ত বন্যা পরিস্থিতি থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন, সেই উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

আরও জেলা খবর