বক্সা ফোর্ট ও লেপচাখাতে সময়ের কড়াকড়ি, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের
বক্সা ফোর্ট ও লেপচাখাতে সময়ের কড়াকড়ি, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ডুয়ার্সের অন্যতম আকর্ষণ আলিপুরদুয়ার জেলার ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্ট এবং পাহাড়ি গ্রাম লেপচাখাত। কিন্তু পর্যটনের ভরা মরশুমেও সেখানে গিয়ে ঘোর সংকটে পড়ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বন দফতরের নতুন নিয়মের জেরে মাত্র ছ’ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকা থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে পর্যটকদের। ফলে পাহাড়ি প্রকৃতির কোলে রাত কাটানোর চেনা আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই কড়াকড়ির জেরে ভরা মরশুমেও বক্সা পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল ও পাহাড়ের সুরক্ষায় কড়া নজরদারি শুরু করেছে বন দফতর। আগে পর্যটকরা বুকিং করে বক্সা ফোর্ট বা লেপচাখাতের হোমস্টেগুলিতে রাত কাটাতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান নিয়মে দিনের আলো থাকতে থাকতেই, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যটকদের পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনই মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয়দের।
এই নতুন নিয়মের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন হোমস্টে মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বক্সা পাহাড়ের উঁচুতে অবস্থিত লেপচাখাত ও বক্সা ফোর্ট এলাকার বহু মানুষের রুটি-রুজি গড়ে উঠেছে পর্যটনকে কেন্দ্র করে। মরশুমের শুরুতে বুকিং বাতিল হওয়ায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বক্সা পাহাড়ের পর্যটন শিল্প পুরোপুরি ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং পর্যটকদের রাতে থাকার অনুমতি দিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের পর্যটনপ্রেমী মানুষ।

