জেলা
ক্ষমতায় বিজেপি, ৩৪ বছর পর জুতো পড়বেন জয়দেব
প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: সিপিএম আমলে অত্যাচারিত হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী বুদবুদের দেবশালার বাসিন্দা জয়দেব বাগদি। তারপর ধনুক ভাঙা পান করেছিলেন যতদিন না রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে ততদিন পায়ে কোন চটি বা জুতো পড়বেন না। সেই ধারা বজায় রেখেছেন দীর্ঘ ৩৪ বছর। রাজ্যে এখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। পালাবদলের পর এবার জুতো পড়বেন জয়দেববাবু।
আউশগ্রাম একসময় ছিল বামেদের দুর্গ। দেবশালাতেও সিপিএমের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। অভিযোগ ছিল কোন বিরুদ্ধ মতামত দেখলেই সিপিএম ব্যাপক অত্যাচার চালাত। পরবর্তীকালে রাজ্যে পালাবদল ঘটে। অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও সবুজ ঝড় দেখা গিয়েছিল। বামেদের ভোট তলানিতে এসে ঠেকেছিল। পরবর্তীকাল দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূলের আধিপত্য ছিল আউশগ্রামে। কিন্তু এবারে আউশগ্রামে পালাবদল ঘটেছে। জয় লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি।
জয়দেববাবু জানান, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী। ১৯৯২ সালে বিজেপি করার জন্য বামেদের অত্যাচারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর পা থেকে জুতো খুলে তাঁকেই জুতো মেরেছিল তৎকালীন বাম নেতা কর্মীরা। জয়দেববাবু তখনই পণ করেছিলেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তবেই জুতো পড়বেন। কিন্তু তখন রাজ্য বা আউসগ্রাম এলাকায় বিজেপির প্রভাব ছিল না বললেই চলে।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। পরবর্তীকালে তৃণমূলের আমল শুরু হয়। তবে তখনো জুতো পড়েননি জয়দেববাবু। তাঁর এই প্রতিজ্ঞা দেখে অনেকেই হাসাহাসি করেছেন। কিন্তু তিনি নিজের লক্ষ্যে ঠিক ছিলেন। জয়দেববাবু বলেন, গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে মাঝে মধ্যে মিটিং মিছিল করি। আর তাতেই চক্ষুশুল হয়েছিল বামেদের। পরবর্তীকালে তৃণমূলেরও চক্ষুশূল হয়েছি। হেনস্থাও হতে হয়েছে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি। এবার জুতো পরবো। ৩৪ বছর ধরে পায়ে জুতো পারিনি। জুতো, চটি ছেড়েছি কিন্তু রাজনীতি ছাড়িনি। তিনি বলেন, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে খালি পায়ে দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচার চালিয়েছি। স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তৃণমূল, সিপিএমকে হারিয়ে বিজেপি এই বিধানসভায় জিতেছে।
বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, এই ধরনের কর্মীদের ত্যাগের জন্যই আজকে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। মানুষ বিজেপিকে দুহাত ধরে আশীর্বাদ করেছে। তার মর্যাদা বিজেপি রাখবে।

