বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

বসিরহাটে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর কাজ বয়কট করে বিএলও-দের, বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬
বসিরহাটে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর কাজ বয়কট করে বিএলও-দের, বিক্ষোভ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজ্য সরকারের  ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar Scheme) প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করার কাজ ঘিরে চরম জটিলতা তৈরি হলো উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে। এই প্রকল্পের কাজ করতে স্পষ্ট অনীহা প্রকাশ করেছেন এলাকার বহু বুথ স্তরের কর্মকর্তা বা বিএলও (BLO), যাঁদের বড় অংশই পেশায় স্কুল শিক্ষক। শনিবার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও (BDO) অফিসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে বসিরহাট নিউ সার্কেল স্কুল পরিদর্শকের (SI) অফিসের সামনে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান শতাধিক বিএলও। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে সমস্ত বিএলও-দের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের কাজের রূপরেখা তৈরি করতে শনিবার বিডিও অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিএলও-রা মহকুমা শাসক (SDO) ও স্কুল পরিদর্শকের উদ্দেশ্যে একটি গণ ডেপুটেশন জমা দেন। তাঁদের সাফ কথা, নির্বাচন সংক্রান্ত এবং মূল শিক্ষাদানের কাজ ছাড়া তাঁরা সরকারের এই অশিক্ষামূলক বা অন্য কোনো প্রকল্পের কাজ করবেন না। এই ধরনের অতিরিক্ত কাজের ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 
তবে এই আপত্তির পেছনে পঠনপাঠনের ক্ষতির চেয়েও বড় কারণ হলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের আশঙ্কা। আন্দোলনকারী বিএলও-দের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে আসা এই নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ১২ পাতার যে ফর্ম রয়েছে, তা পূরণ করার পর স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণে বহু মহিলার নাম উপভোক্তা তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
 এর আগে ‘এসআইআর’ (SIR) বা বিশেষ পুনর্বিবেচনা সমীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষকরা দেখেছেন, সরকারি নিয়মে নাম বাদ গেলেই সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সমস্ত ক্ষোভ ও আক্রমণ সরাসরি এসে পড়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিএলও-দের উপর। বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ভুলের কারণে যদি কোনো গরিব মানুষ প্রকল্পের টাকা না পান, তবে গ্রামে ঢুকে আমাদেরই মার খেতে হবে। নিজেদের পেশাগত সম্মান ও শারীরিক নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁরা এই প্রকল্প থেকে দূরে থাকতে চান।

উল্লেখ্য, ১ জুন থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা থাকলেও বিএলও-দের এই গণ বয়কটের ডাকে মহকুমা জুড়েই প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে.  যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা সমাধানসূত্র মেলেনি।

আরও জেলা খবর