দেশ
জনসংখ্যা বাড়াতে অভিনব প্রকল্প অন্ধ্র সরকারের
প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেশে জন্মহার বাড়তে থাকা পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু নিজের রাজ্যের জনসংখ্যা বাড়ানোর নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। জন বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকলেও তাঁর দৃষ্টি রয়েছে জন্মহার বাড়ানোর দিকে। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি অভিনব প্রকল্প চালু করেছেন। যার মাধ্যমে দম্পতিদের সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প অনুযায়ী, যে কোনো দম্পতি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলে সরকার তাদের ৩০ হাজার টাকা দেবে। আর চতুর্থ সন্তানের জন্য এই অঙ্ক বেড়ে ৪০ হাজার টাকা করা হবে। এই টাকা সরাসরি দম্পতির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার চাইছে, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তান লালন পালনে আর্থিকভাবে যেন কম চাপ অনুভব করে।
মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছেন, এক রাজ্যের উন্নতির জন্য স্থিতিশীল জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে জন্মহার কমে যাচ্ছে, তাই যেসব রাজ্যে জনসংখ্যা বাড়ানো নিয়ন্ত্রিত হবে, সেখানে ভবিষ্যতে কর্মীশক্তি ও অর্থনীতির জন্য সুবিধা ঘটবে।
তবে অন্ধ্রে এই উদ্যোগ অবশ্য প্রথমবার নয়, এর আগে গত ৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার দ্বিতীয় সন্তান গ্রহণকারী দম্পতিদের ২৫,০০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দক্ষিণের অধিকাংশ রাজ্যে জন্মের হার এই মুহূর্তে জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। অন্ধ্রপ্রদেশও ব্যতিক্রম নয়। এই মুহূর্তে গোটা দেশে মহিলা পিছু প্রসবের হার ২.১১। সেখানে অন্ধ্রে মহিলাপিছু প্রসবের হার ১.৫। চন্দ্রবাবু মনে করছেন, রাজ্যের জন্মহার এখনই বাড়ানো উচিত।
এবার এই নতুন প্রকল্প নিয়ে সমাজে বিভিন্ন মত উঠছে। কেউ কেউ বলছেন, এত ভাতা দিলে পরিবারের আর্থিক সুবিধা হবে এবং মাতৃত্বের সম্মান বাড়াবে। অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, জনসংখ্যা বেড়ে গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যে পরিকল্পনা মেনে এই প্রকল্প চালানো হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রসারে সাহায্য করবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রামীণ ও নগর এলাকায় অনেক দম্পতি ইতোমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয় এখন দিনগুলোই নির্ধারণ করবে।

