বোধি বৃক্ষ - সত্যমেব জয়তে
সংকলক: সন্দীপ সিনহা
প্রত্যেক ধর্মেই সত্য, সুবিচার, মহানুভবতা এবং সংযম শিক্ষার কথা বলা হয়। যদি কোন মানুষ নিজের ও সকলের মঙ্গল চান তাহলে এগুলিকে নিছক ধর্মীয় কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। এমনকি যারা নাস্তিক তারাও এই মূল্যবোধ গুলিকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। ভারতীয় সনাতন ধর্মশাস্ত্রে সত্য ও সততার জয়গান করা হয়েছে। মহাভারতের একটি চরিত্র হচ্ছে ধর্মব্যাধ। সেই ধর্মব্যাধ বলেছেন, অহিংসার মূলে আছে সত্য। সত্যকে অবলম্বন না করলে প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়। বিজ্ঞানের যেসব আশ্চর্যজনক আবিষ্কার তার মূলে আছে বিজ্ঞানীদের সত্যকে অনুসরণ করা, নিরলস প্রচেষ্টা এবং একাগ্র মনোযোগ। সত্যই ভগবান। যে মানুষ সত্যকে ধরে থাকে সে ভগবানের কোলে বসে থাকে— একথা শ্রীরামকৃষ্ণের। কোন শব্দকেই বিকৃত না করে একটি বাক্য হুবহু যেমন ঠিক তেমনভাবে বলার নাম সত্য। কিন্তু এর ব্যতিক্রম আছে। কখনো কখনো অন্যকে আঘাত করে অথবা দুঃখ দেয় এমন অপ্রিয় সত্য কথা আমরা সরাসরি বলি না। সত্যের দ্বিতীয়রূপটি হল সত্য রক্ষা করা বা প্রতিশ্রুতি পালন করা। কর্মের প্রতি নিষ্ঠা হল সত্যের তৃতীয় রূপ। সত্যবাদীকে অন্যের মঙ্গলের জন্য প্রচুর কষ্ট সহ্য করতে হয় কিন্তু তবু তারা তা থেকে সরে আসেন না। সত্যকে অনুসরণ করে মানুষ ভগবানকে উপলব্ধি করতে পারে কারণ ভগবান হলেন সত্যের প্রতিমূর্তি। সেই জন্য এই ভাব আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ও সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রোথিত করা দরকার এবং আমাদের সামাজিক আচার ব্যবহারেও এর প্রতিফলন ঘটা উচিত। এটি সমাজের মঙ্গল বিধানের একমাত্র পথ। একজন সজ্জন মানুষ কথা ও কাজের মধ্যে কোন পার্থক্য রাখেন না। তাঁর বিবেক তাঁর কাছে অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাঁর শক্তি, দুর্বলতা, মেধা ও সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে তাঁর ধারণা পরিষ্কার। তিনি তাঁর বিশেষ বিশেষ গুণগুলির উৎকর্ষ সাধনে এবং তাঁর সীমাবদ্ধতা ও ভুলগুলি লাঘব করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

