বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিদেশ

হরমুজ প্রণালী খোলার দাবিতে জয়শঙ্করের কড়া বার্তা

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী খোলার দাবিতে জয়শঙ্করের কড়া বার্তা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে আন্তর্জাতিক জলপথের সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে জাহাজ চলাচল অবাধ ও নিরাপদ রাখা অপরিহার্য ।

জয়শঙ্কর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জলপথে পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা বা চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে:
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। এই পথ রুদ্ধ হলে ভারতে জ্বালানির দামে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই করিডোরের ওপর নির্ভরশীল। এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে।
নাবিকদের নিরাপত্তা: সাম্প্রতিক সংঘাতে বেশ কিছু ভারতীয় নাবিকের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জয়শঙ্কর বলেন, অসামরিক জাহাজ ও কর্মীদের নিশানা করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
বিদেশমন্ত্রী জানান যে, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলোর মুক্তি এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ভারত সরাসরি তেহরানের সাথে আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শক্তি প্রদর্শন বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেয়ে কূটনীতি এবং সংলাপই এই সংকট সমাধানের একমাত্র টেকসই পথ । ভারতের এই মধ্যস্থতার ফলেই ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভারতীয় গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে।
জয়শঙ্কর সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "শান্তি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় হতে পারে না"। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী স্থিতিশীলতা না ফিরলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। তিনি ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে আহ্বান জানান যাতে তারা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে।
নয়াদিল্লির এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত কেবল নিজের স্বার্থেই নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

আরও বিদেশ খবর