বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিদেশ

ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের বিশেষ অগ্রাধিকার

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের বিশেষ অগ্রাধিকার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্ব কূটনীতির আঙিনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ভারত। ২০২৬ সালের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে নয়াদিল্লি যে রোডম্যাপ তৈরি করেছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে ভারত এবার স্রেফ সদস্য দেশ নয়, বরং এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার কাণ্ডারি হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত তার সভাপতিত্বের মেয়াদকালে যে বিষয়গুলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তাকে এক কথায় বলা হচ্ছে— 'গ্লোবাল সাউথ-এর জয়গান'।

নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, এবারের সম্মেলনে ভারতের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা ডিপিআই। ভারতের ইউপিআই বা ডিজিটাল লেনদেনের সাফল্য এখন বিশ্বস্বীকৃত। ভারত চায় এই প্রযুক্তি ব্রিকসের নতুন সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে, যাতে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়ন ঘটে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহারে নৈতিকতা বজায় রাখার দাবিও তুলেছে দিল্লি।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের প্রসার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য কমাতে ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের মুদ্রায় (যেমন টাকা বা রুবল) লেনদেনের ওপর জোর দিচ্ছে ভারত। তবে দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কোনো ‘ব্রিকস কারেন্সি’ তৈরির পক্ষপাতী নয়, বরং নিজস্ব মুদ্রার সার্বভৌমত্ব রক্ষাই তাদের লক্ষ্য।
তৃতীয়ত, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা। ভারত চায় ব্রিকস মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা যাক। বিশেষ করে সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনো দেশের ‘দ্বিচারিতা’ যে সহ্য করা হবে না, তা নিয়ে ভারত তার মিত্র দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে মরিয়া হয়ে রয়েছে।
চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা। গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে উত্তরণের জন্য উন্নত দেশগুলো যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সাহায্য দেয়, সেই দাবিকে আরও জোরালো করতে চায় ভারত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত চাইছে ব্রিকস যেন কোনোভাবেই পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত না হয়, বরং তা যেন একটি গঠনমূলক বিকল্প হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, দিল্লির এই ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’ ব্রিকসকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও বিদেশ খবর